বিশেষ বিশ্লেষক | ৩০ এপ্রিল ২০২৬
লন্ডন/ইসলামাবাদ: বর্তমান বিশ্ব এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একদিকে পরিবেশ বিপর্যয়, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন আর প্রযুক্তির ভীতি; অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা আধিপত্যবাদী নীতির সমাপ্তি। লন্ডনে নিযুক্ত ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও ডি আগুইয়ার প্যাট্রিওটার সাম্প্রতিক বক্তৃতা এবং ওসামা বিন লাদেন অভিযানের পর পাকিস্তানের অপ্রকাশিত নথিগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, পৃথিবী এখন আর কোনো নির্দিষ্ট একটি মেরুতে আটকে নেই।
সম্প্রতি লন্ডনে আয়োজিত এক বিশেষ সম্মেলনে রাষ্ট্রদূত প্যাট্রিওটা বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির এক হতাশাজনক চিত্র তুলে ধরেছেন। তবে এই সংকটের মধ্যেও তিনি ‘গ্লোবাল নর্থ’ বা উন্নত দেশগুলোর মধ্যে এক স্পষ্ট বিভাজন দেখতে পাচ্ছেন। তাঁর মতে:
বিশ্ব এখন আর কোনো একক দেশের নিয়ন্ত্রণে ফেরার ক্ষমতা রাখে না।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা নীতি এবং আইন অমান্য করে সামরিক শক্তি প্রদর্শনের যুগ এখন পতনের শেষ প্রান্তে।
ইরান ও হরমুজ প্রণালির চলমান সংকট প্রমাণ করছে যে, নিরাপত্তার জন্য আমেরিকার ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল থাকা অন্যান্য দেশগুলোর জন্য এখন চরম ঝুঁকিপূর্ণ।
রাষ্ট্রদূত প্যাট্রিওটার এই বিশ্লেষণকে আরও জোরালো করে তোলে ২০১১ সালের ২ মে অ্যাবোটাবাদে ওসামা বিন লাদেন অভিযানের পরবর্তী ঘটনাবলি। সম্প্রতি ফারহাতুল্লাহ বাবর তাঁর ‘দ্য জারদারি প্রেসিডেন্সি’ বইয়ে প্রকাশ করেছেন যে, কীভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার ঘনিষ্ঠ মিত্র পাকিস্তানকে না জানিয়েই সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে অভিযান চালিয়েছিল।
বিশ্লেষণ: সেই সময় প্রেসিডেন্ট ওবামা ও আসিফ জারদারির কথোপকথন এবং সেনাপ্রধান জেনারেল কায়ানির নীরবতা প্রমাণ করেছিল যে, মার্কিন আধিপত্যের সামনে রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্ব কতটা ভঙ্গুর হতে পারে। রবার্ট গেটস তাঁর ‘ডিউটি’ বইয়ে লিখেছিলেন, "এটি ছিল পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর জন্য সবচেয়ে বিব্রতকর দিক।" আজকের পশ্চিমা দেশগুলো সেই ঐতিহাসিক শিক্ষা থেকেই বুঝতে পেরেছে যে, বহুমুখী বন্ধুত্বই দীর্ঘমেয়াদী ভবিষ্যতের একমাত্র রক্ষা কবচ।
ব্রাজিলীয় রাষ্ট্রদূতের মতে, ইরানে পরিচালিত বর্তমান বিশৃঙ্খলা ও অস্থিরতা একতরফা আধিপত্যবাদেরই চরম বহিঃপ্রকাশ। আলজাজিরার এক সাম্প্রতিক টকশোতে বিশ্লেষকরাও একই মত প্রকাশ করেছেন—বিশ্ব এখন বহুপাক্ষিকবাদে (Multilateralism) বিশ্বাসী এক বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠ গোষ্ঠীর দিকে হেলে পড়ছে। পারস্য উপসাগরীয় রাজতন্ত্রগুলোর ক্ষেত্রে আমেরিকার দেওয়া নিরাপত্তা বলয় আজ যে কতটা ভঙ্গুর, তা ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্য সংকটে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
প্যাট্রিওটার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই একমুখী মেরুকরণ ভাঙতে বড় ভূমিকা রাখছে ইরান ও গ্লোবাল সাউথের দেশগুলো। পশ্চিমা দেশগুলো এখন নিরাপত্তার জন্য নতুন অংশীদার খুঁজছে। এটি কেবল সামরিক নয়, বরং অর্থনৈতিক এবং কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও এক বড় ধরণের পরিবর্তন আনছে।
৩০ এপ্রিল ২০২৬-এর এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে এটি নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে, লাদেন অভিযানের সময় যে একক আধিপত্যের দাপট আমেরিকা দেখিয়েছিল, ২০২৬ সালে এসে তা ম্লান হয়ে গেছে। ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও প্যাট্রিওটার ভাষ্যমতে, বিশ্ব এখন এক অনিশ্চিত কিন্তু নতুন বহুমুখী সম্ভাবনার দিকে পা বাড়াচ্ছে।
তথ্যসূত্র ও রেফারেন্স:
বক্তৃতা: আন্তোনিও ডি আগুইয়ার প্যাট্রিওটা, লন্ডনে নিযুক্ত ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত (এপ্রিল ২০২৬)।
বই: ফারহাতুল্লাহ বাবর, ‘The Zardari Presidency: Now It Must Be Told’।
বই: বারাক ওবামা, ‘A Promised Land’।
নিবন্ধ: ওয়াশিংটন পোস্ট, ‘Pakistan Played Its Role’ (আসিফ আলি জারদারি)।
আন্তর্জাতিক মিডিয়া: আলজাজিরা বিশ্লেষণ ও সিনহুয়া নিউজ এজেন্সি।
প্রতিবেদন: রবার্ট গেটস, ‘Duty’ (সাবেক মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী)।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
সিনিয়র এসইও কনসালট্যান্ট ও ডিজিটাল পাবলিশার
ওয়েবসাইট:
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |